এবার কোটাবিরোধী আন্দোলনে নেমেছে বিইউপি শিক্ষার্থীরা


সাদিকুর রহমান সাদি,  বশেমুরমেই।। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটার সংস্কার ও ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে মিরপুর ১২ বাস স্ট্যান্ড রোড অবরোধ করে ‘বাংলা ব্লকড’ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এর শিক্ষার্থীরা।
৮ জুলাই (সোমবার) বিকাল ৩টা থেকে শুরু হয় এই আন্দোলন যেখানে বিইউপির বহু সংখ্যক শিক্ষার্থীকে অংশ নিতে দেখা যায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মিরপুর ১২ বাস স্ট্যান্ড থেকে মিরপুর সাড়ে ১১ এর  দিকে অগ্রসর হতে থাকে এবং মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির সামনের সড়ক অবরোধ করে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে রাস্তা অবরোধ না করার জন্য নির্দেশ দেয়। তবে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের সমাবেশ চালিয়ে যায়।
এসময় শিক্ষার্থীরা, ‘সংবিধানের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘মেধা যার চাকরি তার’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’ সহ বিভিন্ন প্লাকার্ড হাতে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। উপস্থিত শিক্ষার্থীরদের দাবি সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কোটা থাকতে পারে, যা পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠী কিংবা প্রতিবন্ধীদের জন্য।
বিইউপি’র এই প্রতিবাদ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, “১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে। যদি এমন বৈষম্যের পুনরাবৃত্তি হয় আমরা আবার যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত আছি। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমে এসেছি আর চূড়ান্ত বিজয়ের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত রাজপথেই থাকবো ইনশাআল্লাহ।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, “আমাদের দেশে মেধাবীরা কোটার জন্য সুযোগ না পেয়ে বিদেশে পারি জমায়। অন্যান্য দেশে তারা ভালো সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। দেশের উন্নতি তখনই হবে যখন মেধাবীরা তাদের যোগ্য স্থান পাবে। কোটা থাকতে পারে প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের জন্য। আর যদি মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকেই তবে তা শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই , কোনো নাতি-পুতিদের জন্য কোটা আমরা মানি না। আমরা মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরুদ্ধে না, আমরা নাতি-পুতি কোটার বিরুদ্ধে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিকাল ৬টায় শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি শেষ করে এবং শিক্ষার্থীদেরকে পরবর্তী আন্দোলনের ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে বলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *