পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা পরিচয়ে ভূয়া বিয়ে করে টাকা ও স্বর্ণলংকার আত্মসাৎ


নাছরুল্লাহ আল কাফী, পিরোজপুর।। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা পরিচয়ে ভূয়া বিয়ে করে টাকা ও স্বর্ণলংকার আত্মসাৎ করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সহায়ক সাইফুল ইসলাম। এক সাক্ষাৎকারে আজ বৃহস্পতিবার (০৬ জুন) সকলে এ প্রতিবেদক ভুক্তভোগী চম্পা আকতার চাঁদনীর সাথে কথা বললে এমনটাই জানা যায়। ভুক্তভোগী এই নারীর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পিরোজপুরের পার্শ্ববর্তী কাঠালিয়া উপজেলার কচুয়া এলাকার লতাবুনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল সাত্তার এর মেয়ে চম্পা আকতার চাঁদনী (৩৫)।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চম্পা আকতার প্রতারক সাইফুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গত ০৮/৪/২০২৪ইং তারিখ বিঞ্জ মেট্রোপলিন ম্যাজিস্ট্রেট (মুগদা আমলী) আদালতে মামলা দায়ের করে। যার সি.আর মামলা নং-৮৯/২০২৪, ধারা: ৪৯৩/৪৯৬/৩২৩/৫০৬দঃবিঃ। এছাড়াও অভিযুক্ত সাইফুলের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল পদক্ষেপ নেয়ার জন্য গত ১৫-০৫-২০২৪ইং তারিখে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) বারাবর  দরখাস্ত প্রেরণ করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
মামলা ও দরখাস্ত সুত্র জানায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গণসংযোগ পরিদপ্তরে কর্মরত মোঃ সাইফুল ইসলাম, অফিস সহায়ক গনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক পরিচয়ে ভুক্তভোগী নারী চম্পা আকতার চাঁদনীর সাথে সম্পর্ক করতে চাইছিল। কিন্তু সে তালাকপ্রাপ্ত নারী হওয়াতে তাতে সে রাজি হয়নি। পরে বিভিন্নভাবে বিয়ের প্রলুব্ধ দেখিয়ে বিয়েতে রাজী করায় ওই নারীকে। বিয়ের কিছুদিন পরই ভুক্তভোগী চম্পা জানতে পারে সে পরিচালক নয় অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে চাকুরী করে। এটা সে প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। বিভিন্ন কৌশলে ভুক্তভোগী চম্পার কাছ থেকে পৈত্রিক জমি-জমা বিক্রি করে ১২ লক্ষ টাকা ও পিতার দেওয়া ৮ (আট) ভরি স্বর্ণলংকার হাতিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী চম্পা আকতার চাঁদনী বলেন, সাইফুলের কারনে আমার প্রবাসী স্বামী আমাকে ডিভোর্স করে দেয়। এরপর আমার সব কিছু হাতিয়ে নেয়। পরে সে আমার ভরণ পোষণ বন্ধ করে দেয় এবং কেয়া নামে একজন মহিলাকে সাথে বিয়ে বর্হিভূত সম্পর্ক শুরু করে। আমি এগুলো প্রতিবাদ করলে সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর শুরু করে এবং সে বলে “তোকে আর রাখবো না”, আমি অন্য মেয়েকে বিয়ে করবো। তখন আমি আমার বিয়ের কাবিন চাইলে বিয়ের কাবিনের একটি ফটোকপি দিয়ে বলে “তুই এটা নিয়ে ধুয়ে পানি খা”, এটা ভুয়া কাবিন। পরে আমি কাবিনের ঠিকানা মোতাবেক যাচাই করে দেখি এটা ভুয়া কাবিন। অথচ ভুয়া কাবিন তৈরী পূর্বক বিয়ের নাটক সাজিয়ে আমাকে কয়েক বছর ধর্ষণ করেছে।
চম্পা আরও জানান, গত ২১/৩/২০২৪ইং তারিখ সকালে সাইফুলের সাথে যে বাসায় আমি ও আমার মেয়ে থাকতাম। সেই বাসা থেকে আমাকে মারধর করে বাহির করে দেয়। এতে আমি অচেতন হয়ে পড়লে আমার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। এরপর আমি মামলা দায়ের করি। পরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সাইফুল ও তার লোকজন দিয়ে প্রতিনিয়ত আমাকে প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে যাচ্ছে। সাইফুলের কারণে আজ আমার জীবন অভিশপ্ত হয়ে গেছে। সাইফুলের মত প্রতারক কিভাবে চাকুরী-তে বহাল থাকে তা প্রশ্নবিদ্ধ। এর কারণে আজ আমি সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু। জীবনে বেঁচে থাকার কোন সম্বল নাই। সাইফুল আমার মতো আরো অনেক নারীর জীবন নষ্ট করে চলেছে, তার বিচার না হলে আরো কত নারী ও পরিবার ধ্বংস হবে তা এক মাত্র আল্লাহপাক জানে।
এছাড়াও রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ মা এবং ছেলে জানায়, তাদের বাসার সাথেই সাইফুলের বাসা হওয়ায় ধারের মাধ্যমে ৬ লক্ষ টাকা নেয়। ঠিকাদারের কাজ করবে এই কথা বলে। কিন্তু সে পারে আর টাকা দেয় না দিয়ে পালিয়ে চলে যায়। সে যে বাসা ভাড়া থাকতো সেই বাসার মালিকও বাসা ভাড়া বাবদ ৫/৬ মাসের টাকা পায়। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ এই প্রতারক সাইফুলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠিন বিচার দাবী জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *