পিতার পেশার কারণে ছাত্রী বহিষ্কার


মো. জাকিরুল ইসলাম, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।। চট্টগ্রাম লালখান বাজারে অবস্থিত আয়েশা (রা:) মহিলা মাদ্রাসায় মাহফুজা আক্তার (৯) পবিত্র কোরআনের অর্ধ হাফেজা একজন ছাত্রীকে ভর্তি করানো হয় বিগত ২৪-০৪-২৪ তারিখে। ছাত্রীর পিতা সংবাদকর্মী এবং একজন সচেতন নাগরিক হাওয়ায় ভর্তির সময় শিক্ষক মহোদয়কে জিজ্ঞেস করেন, হেফজ বিভাগে কতজন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং শিক্ষক কতজন রয়েছে? প্রতিউত্তরে ভর্তির দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক (ব্যবস্থাপক) জনাব কাউসার জানান ৩০/৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং ৩জন শিক্ষক রয়েছেন। আমরা এর চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করিনা কারণ আমাদের নির্দিষ্ট কোটা ৩০/৩৫ জন। আবাসিক মানসম্মত নানা সুযোগ সুবিধার সুবাদে ছাত্রীর পিতা তিনি তাদের কথা সরল মনে বিশ্বাস করেন এবং উক্ত মাদ্রাসায় মেয়েকে ভর্তি করান।
উক্ত মাদ্রাসায় প্রথম সপ্তাহে দুই অভিভাবক মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের কথার প্রতিশ্রুতি বরখেলাপ অনিয়ম ও নেতিবাচক কারণে দুই ছাত্রীকেই ২০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ে যায়। মাদ্রাসার বিভিন্ন নিয়ম-অনিয়ম ইস্যুতে অভিভাবক কথা বলায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে শত্রুতে পরিণত হয়। যা নিয়মিত নানা বিষয়ে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বহিষ্কৃত ছাত্রীর অভিভাবক নিজেই ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী।
ভর্তির এক মাস অতিবাহিত হতে না হতেই তিনি জানতে পারেন, উক্ত মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগের সত্তরের অধিক ছাত্রীকে ভর্তি করানো হয়েছে কিন্তু শিক্ষক আগের মতই রয়েছে ৩ জন। উক্ত ছাত্রীর অভিভাবক মাদ্রাসার ভর্তির দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক (ব্যবস্থাপক) জনাব কাউসার কে জিজ্ঞেস করেন, আপনি তো ভর্তির সময় আমাকে বলেছিলেন, আপনাদের নির্দিষ্ট কোটা রয়েছে কিন্তু এত ছাত্রী ভর্তি করা হলো কেন? শিক্ষক কম হওয়ার কারণে এবং ছাত্রী বেশি হওয়ার কারণে ছাত্রীদের লেখাপড়া যথাযথ হবেনা।
ছাত্রীর অভিভাবকের এমন প্রশ্ন শুনে তিনি অভিভাবকের সাথে অশুভ আচরণ করেন। জনাব কাউসার বলেন, আপনার মেয়েকে আমাদের মাদ্রাসায় পড়াতে চাইলে পড়ান, না হলে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি বলে ওঠেন, আপনি আমাকে চেনেন, আমি এম.এইচ কলেজের ছাত্র ছিলাম। তখন উক্ত ছাত্রীর অভিভাবক এবং জনাব কাউসার এর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।  শিক্ষক কাউসার বলেন, আমাদের মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত কেউ মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্রীদের সম্পর্কে জানতে চায়নি, আপনি কেন জানতে চাইবেন? আপনি মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিষয় জানতে চেয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে  করেছেন, তাই আপনার মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হবে। আমি এ বিষয়ে পরিচালকের সাথে কথা বলবো।
উক্ত শিক্ষক কাউসার মাদ্রাসার পরিচালক কে বিভিন্ন বিভ্রান্ত মুলক তথ্য- উপাত্ত দিয়ে অভিভাবকের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত করে তোলেন। বিগত ১৩-০৬-২৪ তারিখ থেকে ২৫-০৬-২৪ তারিখ পর্যন্ত উক্ত মাদ্রাসাটি পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ছাত্রীদের অভিভাবক ছাত্রীদের মাদ্রাসায় নিতে যায় এবং মাদ্রাসা থেকে বাসায় নিয়ে আসে।
বিগত ২৫-০৬-২৪ তারিখে মাদ্রাসা নির্দিষ্ট খোলার দিনে উক্ত ছাত্রী মাহফুজ আক্তার কে মাদ্রাসায় নিয়ে গেলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় আপনার মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে অভিভাবকের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। তিনি জানতে চান কি কারণে তার মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হলো? প্রতিউত্তরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানান, মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জানার চেষ্টা করার কারণে এবং মাদ্রাসায় সাংবাদিকের উপস্থিতির কারণে আপনার মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
উক্ত ছাত্রীর অভিভাবক তৎক্ষণাৎ মাদ্রাসার পরিচালক জনাব জালাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি একই কথা বলেন। উক্ত বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তিনি মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন।  এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা পরিচালক এবং পরিচালক ও অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার এর সঙ্গে কোনো ভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না।
এ বিষয়ে গতকাল (৩ রা জুলাই) রাত ১০:৪০ মিনিটে মাদ্রাসার পরিচালক জনাব জালাল উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, উক্ত ছাত্রীর পিতার কারণে ছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনাকে প্রশ্ন করা হলো, পিতার কারণে কি ছাত্রীকে বহিষ্কার করতে পারবেন? উত্তরে তিনি বলেন, অত কিছু বুঝিনা। উক্ত ছাত্রীর পিতা মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছে এবং  তাঁর কারণে মাদ্রাসায় সাংবাদিকের উপস্থিত হয়েছে, তাঁর কারণে মাদ্রাসার সম্মান নষ্ট হয়েছে। তাই তাঁর মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *