সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে, পানিবন্দি হাজার পরিবার


মোঃ শফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ।। সিরাজগঞ্জ জেলার হার্ডপয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ও মেঘাই পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অপর দিকে যমুনা নদীর পাশাপাশি অনেক অভ্যন্তরীণ নদী ফুলজোড়, ইছামতি, করতোয়া নদীর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধিতে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল। ইতোমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার হাজার পরিবারের ওপরে। প্লাবিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ শত হতে ৫ শত হেক্টর ফসলী জমি। অপরদিকে নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।
শুক্রবার ৫ জুলাই দুপুর ২ টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহরের হার্ডপয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩৭ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে পানি বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানি রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ২৪ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনায় পানি বেড়ে জেলার কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব অঞ্চলের হাজার পরিবারের মত। তলিয়ে গেছে ফসলী জমি, রাস্তাঘাট ও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যাকবলিত মানুষগুলো বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।
সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর, কাজিপুর, বেলকুচি, ও চৌহালি উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে চলছে নদীভাঙ্গন। গত এক দের প্তাহের ব্যবধানে এই এলাকাগুলোতে প্রায় ২ শত বাড়িঘর যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার যমুনা নদীর মধ্যবর্তী কোওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া মুন্সী, তিনি জানান আমার ইউনিয়ন যেহেতু যমুনা নদীর মধ্যবর্তী আমার ইউনিয়নের বেশিরভাগ পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে আমি সব সময় তাদের খোঁজখবর নিচ্ছি এবং বিভিন্নভাবে তাদের সহযোগিতা করছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, গত কয়েকদিন ধরেই যমুনা নদীর পানি দ্রুতগতিতে বেড়েছে। ইতোমধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পানি ধীরগতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে মাঝারি আকারের বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলার ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ ফালানো হচ্ছে ফলে ভাঙ্গন এলাকা নিয়ন্ত্রণের শতভাগ চেষ্টা চলছে।
সিরাজগঞ্জ জেলার কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর জানান, বন্যার পানি উঠে জেলার সাড়ে ৪ শত হতে ৫ শত হেক্টর ফসলী জমি যমুনা নদীর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ক্ষতির পরিমাণ আরও কিছু বৃদ্ধি পেতে পারে।
ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আক্তারুজ্জামান বলেন, সর্বশেষ জেলার ৫টি উপজেলার হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে এই বিষয়ে সার্বিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। ৫০০ মেট্রিক টন চাল আর ১০ লাখ টাকা মজুদ আছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুমতিক্রমে সেগুলো বিতরণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *