যে পাঁচ সময়ে দোয়া কবুল হয়


আল্লাহর নেয়ামতে পরিপূর্ণ সুন্দর এই পৃথিবী। সৌভাগ্যক্রমে শান্তির ধর্ম ইসলামে জন্মেছি আমরা। ইসলামী নিয়ম অনুসারে জীবন যাপন করলে, প্রতিটি কাজে সওয়াব মিলে।
মহান আল্লাহ আমাদের বিভিন্ন পরীক্ষায় ফেলে বিপদ-আপদের মাধ্যমে খাঁটি নেককার বান্দা হয়ে অনন্ত গন্তব্য স্থলে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। নবী-রাসুল সাহাবিদের জীবনী থেকে আমরা সেসব জানতে পারি। তাই বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বিভিন্ন আমল, জিকির ও দোয়া পাঠের শিক্ষা দিয়েছেন নবীজি (সা.)।
দোয়া করলে আল্লাহতায়ালা কবুল করেন। বান্দাকে সাহায্য করেন, প্রার্থিত বস্তু দান করেন। বান্দার আশা পূরণ করেন।
যদি রিজিক হালাল হয়, একাগ্রতার সঙ্গে দোয়া করা হয় এবং দোয়া করার পর ফলাফলের জন্য তাড়াহুড়া না করা হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তিনি অবশ্যই দোয়া কবুল করবেন।
দিন ও রাতের বিভিন্ন অংশে দোয়া কবুলের কথা বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যেমন-
১. ফরজ নামাযের শেষে
আবু উমামা (রা.) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! কোন্ সময়ের দুআ সবচেয়ে বেশি কবুল হয়?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন- রাতের শেষ প্রহরে এবং ফরজ নামাজের শেষে। (জামে তিরমিযী, হাদিস ৩৪৯৯; সুনানে কুবরা, নাসায়ী, হাদিস ৯৮৫৬)
এই হাদিস থেকে জানা যায়, দুই সময়ে দোয়া অধিক কবুল হয়। একটি হল, ফরজ নামাজের শেষে দোয়া করা। ফরজ নামাজের শেষে দোয়া করলে তা কবুল করা হয়। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্বের সঙ্গে সে সময় দোয়া করতেন।
মুগীরা ইবনে শুবা (রা.) বলেন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের শেষে দোয়া করতেন। (আততারীখুল কাবীর, বুখারী ৬/৮০; আদদিরায়া, ইবনে হাজার ১/২২৫)
২. রাতের শেষ প্রহরে
উপরে আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, দুই সময়ের দোয়া অধিক কবুল হয়। একটি হল- রাতের শেষ প্রহরে।
বিষয়টি আরো একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এক হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেছেন- জনৈক সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, রাতের কোন সময়টিতে দোয়া করলে অধিক কবুল হয়?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- রাতের শেষ সময়। -মুসনাদে বায্যার, হাদিস ৬১৬৭; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস ৫৬৮২; মুজামে আওসাত, তবারানী, হাদিস ৩৪২৮
৩. রাতে ঘুম ভাঙলে
আমরা যারা দুর্বল, শেষ রাতে জাগতে পারি না, তাদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুযোগ। প্রায় সকলেরই রাতে কখনো না কখনো ঘুম ভাঙে। ঘুম ভাঙার সাথে সাথে অন্য কোনো কথা না বলে সহজ কয়েকটি কালিমা পড়ে এর পর যে দোয়াই করব আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন।
উবাদা ইবনে সামেত (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- রাতে ঘুম ভাঙলে বা জাগ্রত হয়েই যে ব্যক্তি এই কালিমাগুলি বলবে-
আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব কেবল তাঁরই এবং প্রশংসাও কেবল তাঁর। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ সবার বড়। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত (গোনাহ ও অমঙ্গল থেকে) কেউ বাঁচতে পারে না এবং কেউ (নেক ও ভালো কাজের) শক্তি রাখে না।
এরপর বলবে- اللّهُمَّ اغْفِرْ لِي. (হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দিন)
বা অন্য কোনো দোয়া করবে, তার দোয়া কবুল করা হবে।
এরপর যদি ওজু করে নামায পড়ে তাহলে তার নামাজ কবুল করা হবে। সহিহ বুখারি, হাদিস ১১৫৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫০৬০; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২২৬৭৩
৪. আজানের সময়
সাহ্ল ইবনে সা‘দ (রা.) বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- দুই সময়ের দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না অথবা (তিনি বলেছেন,) খুব কমই ফেরত দেওয়া হয়-
১. আজানের সময়।
২. জিহাদের সময়, যখন তুমুল লড়াই চলতে থাকে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২৫৪০; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদিস ৪১৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ১৭২০
৫. আজানের জবাব দেওয়ার পর
আজানের সময় করণীয় পাঁচটি আমলের কথা হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। একটি হল- আজানের জবাব দেওয়া তথা মুয়াজ্জিনের সাথে সাথে আজানের কালিমাসমূহ উচ্চারণ করা। আজানের জবাব দেওয়ার একটি ফজিলত হল- তার পরে দোয়া কবুল হয়।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন- এক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! মুয়াজ্জিনরা (আজান দিয়ে) আমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে নিচ্ছেন। (আমাদেরও এমন কোনো আমল বলে দিন।)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুয়াজ্জিনরা যা বলে তোমরাও তা বল। এরপর দোয়া কর, তোমার দোয়া কবুল করা হবে। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *